YouTube Ad

পারস্যের আকেমেনীয় সাম্রাজ্যের ইতিহাস।

পারস্যের আকামেনীয় সাম্রাজ্যের ইতিহাস : প্রথম পারস্য সাম্রাজ্য 

উচ্চাভিলাষী, দক্ষ শাসক এবং বীর যোদ্ধা সাইরাস দ্য গ্রেট খ্রিঃপূঃ ৫৫০ অব্দে নিজ নানা এসটিজিয়াসকে পরাজিত করে মেডেস সাম্রাজ্য দখল করেন। ফলে মেডেস সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং সাইরাস দ্য গ্রেটের নেতৃত্বে উত্থান হয় পার্সিয়া তথা পারস্য সাম্রাজ্যের। সম্রাট সাইরাসের পরবর্তী শাসক সম্রাট দারিয়াসের পূর্বপুরুষ একামেনিসের নামানুসারে এটি পরবর্তীতে একেমেনিড সাম্রাজ্য নামেও পরিচিতি লাভ করে।

এই একামেনিড সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু হয় ইতিহাসের প্রথম পারস্যের সাম্রাজ্যের। একেমেনিড সম্রাট সাইরাস ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ এবং জনকল্যাণকামী শাসনকর্তা। তার প্রাণিত মানবহিতৈষী আইন এখনও জগৎ খ্যাত। এরপর তিনি পারস্যের লিডিয়া রাজ্য, মেসোপটেমিয়া তথা ইরাকের বিখ্যাত ব্যাবিলন রাজ্য দখল করেন। 

আকামেনীয় সাম্রাজ্য
তিনি ব্যাবিলন বিজয় করে বিশ্বাসঘাতক ইহুদিদের দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান এবং পুনরায় জেরুজালেম শহরে বসবাসের অনুমতি প্রদান করেন। তাই ইহুদিরা সম্রাট সাইরাসকে নিজেদের মুক্তিদাতা হিসেবে স্বরণ করে। সম্রাট সাইরাস প্যাসারগাড় শহর তৈরি করে সাম্রাজ্যের রাজধানী স্থাপন করেন। পাশাপাশি তিনি জরথুস্ত্রীয় ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেন। একেমেনিড সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে বিবেচিত করা হয় সম্রাট দারিয়াসকে।

তার পূর্বপুরুষ আকামেনিসের নামানুসারে একেমেনিড সাম্রাজ্যের নামকরণ করা হয়। সম্রাট দারিয়াসের শাসনামলে সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃত ঘটেছিল। এই সময় পারস্য সাম্রাজ্য ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকা অর্থাৎ ৩ মহাদেশে বিস্তার লাভ করে। মানব সভ্যতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সভ্যতা - মিশরীয় সভ্যতা, মেসোপোটেমিয়া এবং সিন্ধু সভ্যতা তার সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

সাইরাস দ্য গ্রেট

তিনি পার্সেপলিস নগরীর গোড়াপত্তন করে শহরটিকে সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানীর মর্যাদা প্রদান করেন। সাম্রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি তিনি পৃথিবীর প্রথম অভিন্ন মুদ্রা প্রবর্তন, ডাক ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সংযোগ মহাসড়ক নির্মাণ করে পৃথিবীর ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।


দারিয়াসের জীবনের প্রথম বিপর্যয় ৪৯০ অব্দে ম্যারাথনের যুদ্ধে। এই যুদ্ধে ইউনিও ও এথেন্সের গ্রিকদের কাছে পারসিকরা প্রথমবারের মতে পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে। এই পরাজয় সম্রাট দারিয়াসের সম্মান ও প্রভাব অনেকটা ক্ষুন্ন হয়। পাশাপাশি এই যুদ্ধের মাধ্যমে গ্রিক পারসিক যুদ্ধের সূচনা হয়। যা পরবর্তীতে ১০০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। 

থার্মোপাইলের যুদ্ধ

ম্যারাথন যুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর অর্থাৎ ৪৮০ অব্দে তাঁর পুত্র সম্রাট জারেক্সিসের শাসনামলে পারসিক এবং এথেন্স, স্পার্টা সহ বিভিন্ন নগররাষ্ট্রের গ্রিকদের মধ্যে সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক থার্মোপাইলের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেও গ্রিকরা পরাজিত হয়। সম্রাট জারেক্সিস তার পিতা দারিয়াসের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে অনেক গ্রিককে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং বিখ্যাত এথেন্স শহর পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়।

৪৬৫ অব্দে সম্রাট জারেক্সিসের মৃত্যুর পর থেকে পারস্য সাম্রাজ্য দুর্বল হতে থাকে। বিশেষ করে ব্যায়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সম্রাটদের বিলাসিতা, মন্ত্রীবর্গ এবং প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের দূর্নীতির কারণে রাজকোষ খালি হতে থাকে। মিশর, সাইপ্রাস, ফিনিশিয়া, ব্যাবিলন সহ অনেক রাজ্য কার্যত স্বাধীন হয়ে পড়ে। 


লেখক এবং সম্পাদক:

মো: এমরান হোছাইন

বি.এ, এম.এ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি,

বান্দরবান কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ।

Contet Creator

YouTube: 1. Baitul Hikmah by Imran

2. History TV Bangla

Facebook ID: Md Imran Hossain

Email : mdimranh.bd95@gmail.com

Post a Comment

Previous Post Next Post